বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা এবং ইন্টারনেটের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়নি
ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর লক্ষ্য পূরণে পিছিয়ে সরকার
২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে সরকার পিছিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র এ কথা জানায়।গত দেড় বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কী কী করেছে, সে বিষয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠায়, তা থেকেই বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। দেখা গেছে, বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে। আর ৩৭টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, তথ্যসহ ১১টি মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিবেদন জমাই দেয়নি। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ মাসের শেষে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
মূলত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে দলটির লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ৩০৬টি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। ১৮ মাস বা এর চেয়েও কম সময়ের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কথা। এ লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ চলমান বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে আলাদা তহবিল গঠন করে।
দেড় বছর পর দেখা গেছে, বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা এবং ইন্টারনেটের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ ছাড়া সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ারে সম্প্রতি অভিযোগ করা হয়, ডিজিটাল পদ্ধতি ও মনুষ্যনির্ভর পদ্ধতি—দুটি একসঙ্গে চলায় আগের চেয়েও ধীরগতিতে কাজ চলছে। আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়েবসাইটগুলোতেও তথ্য সবসময় হালনাগাদ করা হচ্ছে না। সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করে এমন সব কাজ খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
ই-টেন্ডারের প্রক্রিয়া ধীর: সারা দেশে দরপত্র নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত ও মারামারি লেগেই আছে। সর্বশেষ এ রকম একটি সংঘর্ষে পঞ্চগড়ে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। দরপত্র নিয়ে সংঘর্ষ এড়াতে সরকার ই-টেন্ডারিং চালুর কথা বলেছিল। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের চার মাস পর এই প্রক্রিয়া চালুর জন্য পরামর্শক হিসেবে জিএসএস আমেরিকা ইনফোটেক লিমিটেড, ইন্ডিয়াকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অথচ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বছরের আগস্টে জানিয়েছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৮০০ কার্যালয়ের মধ্যে ২০টিতে ই-টেন্ডারিং চালু করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে এই চারটি সংস্থা পুরোপুরি ই-টেন্ডারিং চালু করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই।
বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (এমআইএস) পরিচালক সাঈদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এখন মন্ত্রণালয়গুলো তাদের দরপত্র অনলাইনে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দরপত্র-প্রক্রিয়ায় কিছুটা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজও এগোয়নি: বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডেমরা অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়। বর্তমান সরকারের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় মানিকগঞ্জ ও ঢাকায় এ পদ্ধতি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও দোহারে এ বছরে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুধু দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সার্কেল কর্মকর্তা ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ভূমির ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ডিজিটাল করা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিচারপ্রার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সরবরাহ শুরু হয়নি: আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টে শুনানির দিন কবে, মামলার অগ্রগতি কেমন ইত্যাদি তথ্য ওয়েব ও মুঠোফোনে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের জানানোর কাজ স্বল্প মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা। সম্প্রতি বিচার বিভাগকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে কিছু কিছু কাজ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা আছে কিন্তু নেই: মুঠোফোনের মাধ্যমে ৪৮২টি উপজেলার চিকিৎসাসেবা-প্রার্থীদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুঠোফোনে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এ খবর সাধারণ মানুষ জানে না। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো, একজন চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা মুঠোফোন সঙ্গে রাখবেন এবং তথ্য দেবেন—এ উদ্দেশ্যে কাজটি করা হয়েছিল। চিকিৎসক-সংকটের কারণে পরিকল্পনাটি তারা জনসাধারণের কাছে প্রচার করতে চাইছে না।
জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় আলোচনায় বসা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মন্ত্রণালয়ের এমআইএস পরিচালক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছু অসুবিধা রয়েছে, সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবধান দূর করার কাজ শুরু করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়: স্বল্প মেয়াদে এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম লক্ষ্য ছিল শারীরিকভাবে অক্ষম এবং বিশেষ সহায়তা লাগতে পারে এমন ব্যক্তিদের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলায় সফটওয়্যারের উন্নয়নে সুবিধা দেওয়া। এ কাজে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগেরও সহায়তা করার কথা ছিল, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, স্বল্প মেয়াদে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না হলে মধ্য বা দীর্ঘ মেয়াদে কাজ শেষ হবে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সরবরাহ, কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ভর্তিপ্রক্রিয়া চালু, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা যায়নি: কৃষিপণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা থাকলেও কৃষক লাভবান হয়েছেন এমন তথ্য নেই। শুধু শিল্প মন্ত্রণালয় ফরিদপুর ও মোবারকগঞ্জের মিলে আখচাষিদের মুঠোফোনে আখ কেনাবেচার তথ্য দিচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর স্বীকার করেছে, কৃষকের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দেশের সব বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দোষ স্বীকার করে মন্ত্রণালয় বরাবর তারা চিঠিও দিয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মূল্য তদারক ইউনিট গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে উপসচিব আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পৌঁছাতে না পারলেও উদ্যোগ রয়েছে। যেমন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করতে আগে তিন মাস সময় লাগত, এখন লাগছে চার ঘণ্টা। এ ছাড়া জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যতই কৃতিত্বের দাবি করুক, আমরা সন্তুষ্ট নই।’
মূলত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে দলটির লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ৩০৬টি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। ১৮ মাস বা এর চেয়েও কম সময়ের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কথা। এ লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ চলমান বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে আলাদা তহবিল গঠন করে।
দেড় বছর পর দেখা গেছে, বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা এবং ইন্টারনেটের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ ছাড়া সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ারে সম্প্রতি অভিযোগ করা হয়, ডিজিটাল পদ্ধতি ও মনুষ্যনির্ভর পদ্ধতি—দুটি একসঙ্গে চলায় আগের চেয়েও ধীরগতিতে কাজ চলছে। আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়েবসাইটগুলোতেও তথ্য সবসময় হালনাগাদ করা হচ্ছে না। সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করে এমন সব কাজ খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
ই-টেন্ডারের প্রক্রিয়া ধীর: সারা দেশে দরপত্র নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত ও মারামারি লেগেই আছে। সর্বশেষ এ রকম একটি সংঘর্ষে পঞ্চগড়ে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। দরপত্র নিয়ে সংঘর্ষ এড়াতে সরকার ই-টেন্ডারিং চালুর কথা বলেছিল। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের চার মাস পর এই প্রক্রিয়া চালুর জন্য পরামর্শক হিসেবে জিএসএস আমেরিকা ইনফোটেক লিমিটেড, ইন্ডিয়াকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অথচ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বছরের আগস্টে জানিয়েছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৮০০ কার্যালয়ের মধ্যে ২০টিতে ই-টেন্ডারিং চালু করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে এই চারটি সংস্থা পুরোপুরি ই-টেন্ডারিং চালু করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই।
বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (এমআইএস) পরিচালক সাঈদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এখন মন্ত্রণালয়গুলো তাদের দরপত্র অনলাইনে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দরপত্র-প্রক্রিয়ায় কিছুটা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজও এগোয়নি: বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডেমরা অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়। বর্তমান সরকারের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় মানিকগঞ্জ ও ঢাকায় এ পদ্ধতি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও দোহারে এ বছরে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুধু দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সার্কেল কর্মকর্তা ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ভূমির ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ডিজিটাল করা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিচারপ্রার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সরবরাহ শুরু হয়নি: আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টে শুনানির দিন কবে, মামলার অগ্রগতি কেমন ইত্যাদি তথ্য ওয়েব ও মুঠোফোনে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের জানানোর কাজ স্বল্প মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা। সম্প্রতি বিচার বিভাগকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে কিছু কিছু কাজ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা আছে কিন্তু নেই: মুঠোফোনের মাধ্যমে ৪৮২টি উপজেলার চিকিৎসাসেবা-প্রার্থীদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুঠোফোনে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এ খবর সাধারণ মানুষ জানে না। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো, একজন চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা মুঠোফোন সঙ্গে রাখবেন এবং তথ্য দেবেন—এ উদ্দেশ্যে কাজটি করা হয়েছিল। চিকিৎসক-সংকটের কারণে পরিকল্পনাটি তারা জনসাধারণের কাছে প্রচার করতে চাইছে না।
জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় আলোচনায় বসা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মন্ত্রণালয়ের এমআইএস পরিচালক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছু অসুবিধা রয়েছে, সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যবধান দূর করার কাজ শুরু করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়: স্বল্প মেয়াদে এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম লক্ষ্য ছিল শারীরিকভাবে অক্ষম এবং বিশেষ সহায়তা লাগতে পারে এমন ব্যক্তিদের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলায় সফটওয়্যারের উন্নয়নে সুবিধা দেওয়া। এ কাজে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগেরও সহায়তা করার কথা ছিল, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, স্বল্প মেয়াদে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না হলে মধ্য বা দীর্ঘ মেয়াদে কাজ শেষ হবে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সরবরাহ, কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ভর্তিপ্রক্রিয়া চালু, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা যায়নি: কৃষিপণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা থাকলেও কৃষক লাভবান হয়েছেন এমন তথ্য নেই। শুধু শিল্প মন্ত্রণালয় ফরিদপুর ও মোবারকগঞ্জের মিলে আখচাষিদের মুঠোফোনে আখ কেনাবেচার তথ্য দিচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর স্বীকার করেছে, কৃষকের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দেশের সব বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দোষ স্বীকার করে মন্ত্রণালয় বরাবর তারা চিঠিও দিয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মূল্য তদারক ইউনিট গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে উপসচিব আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পৌঁছাতে না পারলেও উদ্যোগ রয়েছে। যেমন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করতে আগে তিন মাস সময় লাগত, এখন লাগছে চার ঘণ্টা। এ ছাড়া জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যতই কৃতিত্বের দাবি করুক, আমরা সন্তুষ্ট নই।’
পাঠকের মন্তব্য
- ২০১০.০৪.২৫ ০৩:৩৬
- It will be very hard for Prime Minister to achieve this aim. Because if ministry will come under digital system. Then Govt. employees will not be able to make corruption. So they will not cooperate with the prime minister to do that. They will try to pass 5years anyway. Its a very big challenge for Prime Minister, How she will create pressure to the Government employees to do it.
But the news result is also showing Prime Minister is not worrying about this matter, though she always speak about "Digital Bangladesh". She has to create huge pressure by making deadlines for govt. employees. because Govt. employees think and believe non can fire them from job, either they perform or not. -
kazi murad
২০১০.০৪.২৫ ০৩:৩৭ - যে সরকার জনসাধারনের জীবনের নিরাপত্তা এবং নূন্যতম চাহিদা মেটাতে ব্যার্থ সেই সরকার গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ! একমাত্র সন্ত্রাস আর দলীয় করণেই সরকার ডিজজিটাল সাফল্য লাভ করেছে আর বাকি সব ক্ষেত্রে পূর্বের এনালগ সাফল্য ধরে রাখাতেও এরা পিছিয়ে পরছে|
-
los
২০১০.০৪.২৫ ০৫:৪৮ - I think the govt should define what is "digital" according to their concept and believe. One should not change the meaning of such valued word & definition " Digital" to be in digital world, 100% BD people should be literate first if not computer-literate!!!!!!!!!!!!!!! never ever possible by BD ! and where 80% political leaders are not really literate !!!!! god bless their concept of being DIGITAL (so called)
-
Md.Habibur Rahman
২০১০.০৪.২৫ ০৯:৩৫ - Akbar na parilay dekho sotobar.
-
Imzir Mollik
২০১০.০৪.২৫ ১২:৪৩ - আওয়ামী লীগ দিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে- এটা শুনলেই এখন হাসি পায়। আমরা জনগণ অনেক আশা নিয়ে আওয়ামী লীগ কে ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের কি দিয়েছে? দেড় বছরে দেশের কি সামান্য উন্নতি হয়েছে? সারা দিনের মধ্যে ১৫/১৬ ঘন্টা বিদ্যুত থাকে না। সরকারের মনে রাখা প্রয়োজন বিগত সরকার কে দোষ দিয়ে বেশিদিন পার পাওয়া যাবেনা। আমি এই যে comments লিখছি , যেকোন সময় বিদ্যুত ছলে যেতে পারে। তাহলে বুযুন দেশের কি অবস্থা। আরো অনেক কিছু লেখার ছিল।
-
Imzir Mollik
২০১০.০৪.২৫ ১২:৫৭ - সারাদিন কাজ শেষে যখন আমরা ঘুমাতে যাই, তখনই বিদ্যুত চলে যায়। আগে তবুও রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুত যেত না। এখন তো বলতে গেলে বিদ্যুত থাকেই না। digital Bangladesh অনেক দুরের ব্যাপার, আগে আমাদের বিদ্যুত দিন, তার পর বড় গলায় কথা বলুন। আর আওয়ামী লীগ নিজে কতটা ডিজিটাল? আসলে আমরা জনগণ পরে গেছি, মহা বিপদে। আওয়ামী লীগ আর বি এন পি কেউ দেশের কথা ভাবে না। শেষ পর্যন্ত বাশ টা জনগন ই খায়। আমরা আর কত ধরা খাব? এই দুই দানব আর রাজাকার দের হাত থেকে আমরা কবে রেহাই পাব?????
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন
যে সরকার জনসাধারনের জীবনের নিরাপত্তা এবং নূন্যতম চাহিদা মেটাতে ব্যার্থ সেই সরকার গড়বে ডিজিটাল বাংলাদেশ! একমাত্র সন্ত্রাস আর দলীয় করণেই সরকার ডিজজিটাল সাফল্য লাভ করেছে আর বাকি সব ক্ষেত্রে পূর্বের এনালগ সাফল্য ধরে রাখাতেও এরা পিছিয়ে পরছে|
উত্তরমুছুনImzir Mollik
উত্তরমুছুন২০১০.০৪.২৫ ১২:৪৩
আওয়ামী লীগ দিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে- এটা শুনলেই এখন হাসি পায়। আমরা জনগণ অনেক আশা নিয়ে আওয়ামী লীগ কে ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের কি দিয়েছে? দেড় বছরে দেশের কি সামান্য উন্নতি হয়েছে? সারা দিনের মধ্যে ১৫/১৬ ঘন্টা বিদ্যুত থাকে না। সরকারের মনে রাখা প্রয়োজন বিগত সরকার কে দোষ দিয়ে বেশিদিন পার পাওয়া যাবেনা। আমি এই যে comments লিখছি , যেকোন সময় বিদ্যুত ছলে যেতে পারে। তাহলে বুযুন দেশের কি অবস্থা। আরো অনেক কিছু লেখার ছিল।