বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৫২ দিনের মাথায় রাজধানী ঢাকায় হরতাল করেছে তত্কালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আর সরকারের ৩ মাসের মাথায় আওয়ামী লীগ হরতাল করেছে দেশব্যাপী। বর্তমান বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮ মাসের মাথায় প্রথম হরতালের ঘোষণা দিয়েছে। আর আওয়ামী লীগ বিএনপি সরকারের ১৮ মাসের মাথায় হরতাল করেছিল ১৬টি।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করেছিল। বিএনপি সরকারের এক মাস ২২ দিনের মাথায় ২০০১ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ রাজধানী ঢাকায় প্রথম হরতাল পালন করে। জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা (বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা) সুবিধা প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ঢাকায় এই হরতালটি ছিল অর্ধদিবসের। অবশ্য আওয়ামী লীগের আগে বামফ্রন্ট ডিজেল-পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জোট
সরকারের বিরুদ্ধে তারও আগে অর্থাত্ ৯ নভেম্বর (সরকারের এক মাসের মাথায়) হরতাল করেছিল। বিএনপি সরকারের (২০০১-২০০৬) প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল করে ২০০২ সালের ৯ জানুয়ারি। এরপর ২০০২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ৬ এপ্রিল, ১৬ জুন, ১ জুলাই, ৪ জুলাই, ৩০ জুলাই, ১৫ আগস্ট, ১ সেপ্টেম্বর, ১০ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১২ ডিসেম্বর এবং ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি, ১০ মার্চ ও ২২ মার্চ সকাল-সন্ধ্যা ও অর্ধদিবস হরতাল করে আওয়ামী লীগ।
গত ৪ টার্মের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—হরতাল, অবরোধ ও অসহযোগ আন্দোলনের মতো কর্মসূচি আহ্বানের দিক থেকে আওয়ামী লীগই এগিয়ে আছে। ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পর থেকে বর্তমান ২০১০ পর্যন্ত ২০ বছরের মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০৬-০৭ সালেই সবচেয়ে বেশি ‘ধ্বংসাত্মক’ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২১টি হরতাল করেছে আওয়ামী লীগ। ৯৬’র মধ্য ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসময় টানা ৩৯দিন দেশে অসহযোগ আন্দোলনও চলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরই শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপিকে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয়া হবে না। আর বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে জোট সরকারের সময় ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে চলে টানা অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি। আওয়ামী লীগই এই দু’মেয়াদের এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছে।
১৯৯১ পরবর্তী সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের হরতালের বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারে থাকাকালে আওয়ামী লীগ ১৭৩দিন হরতাল পালন করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় পর্যায়ে ৫৯ দিন হরতাল পালন করেছে (সূত্র : আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত)। এসময় স্থানীয় পর্যায়ে ২৩৩টি হরতাল পালিত হয়। এই ৫ বছরের মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও স্থানীয় পর্যায়ে ৮ দিন হরতাল পালন করে। গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সারাদেশে ১৩০টি হরতাল পালন করেছে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হরতালকে ‘ধ্বংসাত্মক’ কর্মসূচি বলে আখ্যায়িত করলেও দেখা গেছে হরতাল ডাকার দিক থেকে বরাবরই প্রথম স্থানে রয়েছে তারা।। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জাতির কাছে হরতাল না করার অঙ্গীকার করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি ঘোষণা করেন, ‘বিরোধী দলে গেলেও আমরা কখনও হরতাল করব না।’ কিন্তু ২০০১ সালের পর এই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে তারা হরতাল কর্মসূচি পালন করে। এদিকে বিগত দিনগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিরোধী দলে থেকে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগই ক্ষমতাসীন সরকারের শুরুর দিক থেকে হরতাল করেছে। এক্ষেত্রে তারা ক্ষমতাসীন সরকারকে হানিমুন পিরিয়ড কাটানোর সময়ও দেয়নি। এদিকে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকতে তাদের ডাকা হরতালকে সফল বলে দাবি করলেও বর্তমানে ক্ষমতায় এসে নিজেদের পালিত সেই হরতালকেই জনসমর্থনহীন ছিল বলে উল্লেখ করছে। গত ১৬ মে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তাদের ডাকা বেশিরভাগ হরতালই ছিল জনসমর্থনহীন। এগুলো কেবল জনগণের দুর্ভোগই বাড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ৩০ এপ্রিল যে গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিল, তা ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান মহাজোট সরকারের ১৭ মাসের মাথায় ঢাকায় মহাসমাবেশ করে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একমাস সময় হাতে রেখে আগামী ২৭ জুন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছেন। সমাবেশে তিনি হরতাল ডাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি জনগণের সমস্যার কথা চিন্তা করে আগেভাগে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, হরতালের সমস্যার চেয়েও বর্তমান সরকারের সময়ে মানুষ বড় সমস্যায় রয়েছে। তার মতে, বিষয়টি বিবেচনা করে দেশের মানুষ এই হরতাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এই হরতালকে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। না হলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারা এটা প্রতিহত করবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। আগামী ২৭ জুন বিএনপির ডাকা জাতীয় পর্যায়ের প্রথম হরতাল হলেও এর আগে বিএনপি নেতারা বগুড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে একটি হরতাল পালন করেছে। সম্প্রতি রাজশাহীর সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়া বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় বগুড়ায় হরতাল পালন করে তারা। যদিও সরকারি দল আওয়ামী লীগের ডাকে ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে কয়েকদফা হরতাল হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সিলেটের জকিগঞ্জেও একটি হরতাল পালন করেছে।
এদিকে বর্তমান বিরোধী দল সরকারের দেড় বছরের মাথায় আন্দোলনের ডাক দিলেও গত সরকারের সময় বিরোধী দল সরকারের প্রথম মাসেই আন্দোলনের ডাক দেয়। অষ্টম জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দিন ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ পল্টনে মহাসমাবেশ থেকে ওইবছর ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে প্রতিরোধ সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেয়। অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওই সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনা গত ১ অক্টোবরের নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে চারদলীয় জোটের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ইসি ও রাষ্ট্রপতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। তিনি বলেছিলেন, একদিকে চার দল, সঙ্গে দু’দল সিএ ও ইসি মোট ৬ দল আর তাদের সঙ্গে বাতাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। সবারই এক কথা ছিল—আওয়ামী লীগকে হারাতে হবে।
বর্তমান সরকারের সময় বিরোধী দল বিএনপি আগামী ২৭ জুন জাতীয় পর্যায়ের প্রথম হরতালের ডাক দিলেও ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল এরই মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু হরতাল পালন করেছে। বর্তমান সরকারের সময় ঢাকায় প্রথম হরতাল পালন করে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে গ্যাস ব্লক চুক্তির প্রতিবাদে গতবছর ১৪ সেপ্টেম্বর তারা ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করে। এমনকি জাতির সামনে হরতাল না করার অঙ্গীকার করেও বিরোধী দলে গিয়ে তারা ঠিকই হরতাল ডেকেছে
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করেছিল। বিএনপি সরকারের এক মাস ২২ দিনের মাথায় ২০০১ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ রাজধানী ঢাকায় প্রথম হরতাল পালন করে। জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা (বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা) সুবিধা প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ঢাকায় এই হরতালটি ছিল অর্ধদিবসের। অবশ্য আওয়ামী লীগের আগে বামফ্রন্ট ডিজেল-পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জোট
সরকারের বিরুদ্ধে তারও আগে অর্থাত্ ৯ নভেম্বর (সরকারের এক মাসের মাথায়) হরতাল করেছিল। বিএনপি সরকারের (২০০১-২০০৬) প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল করে ২০০২ সালের ৯ জানুয়ারি। এরপর ২০০২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ৬ এপ্রিল, ১৬ জুন, ১ জুলাই, ৪ জুলাই, ৩০ জুলাই, ১৫ আগস্ট, ১ সেপ্টেম্বর, ১০ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১২ ডিসেম্বর এবং ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি, ১০ মার্চ ও ২২ মার্চ সকাল-সন্ধ্যা ও অর্ধদিবস হরতাল করে আওয়ামী লীগ।
গত ৪ টার্মের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—হরতাল, অবরোধ ও অসহযোগ আন্দোলনের মতো কর্মসূচি আহ্বানের দিক থেকে আওয়ামী লীগই এগিয়ে আছে। ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পর থেকে বর্তমান ২০১০ পর্যন্ত ২০ বছরের মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০৬-০৭ সালেই সবচেয়ে বেশি ‘ধ্বংসাত্মক’ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২১টি হরতাল করেছে আওয়ামী লীগ। ৯৬’র মধ্য ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসময় টানা ৩৯দিন দেশে অসহযোগ আন্দোলনও চলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরই শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপিকে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয়া হবে না। আর বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে জোট সরকারের সময় ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে চলে টানা অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি। আওয়ামী লীগই এই দু’মেয়াদের এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছে।
১৯৯১ পরবর্তী সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের হরতালের বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারে থাকাকালে আওয়ামী লীগ ১৭৩দিন হরতাল পালন করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় পর্যায়ে ৫৯ দিন হরতাল পালন করেছে (সূত্র : আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত)। এসময় স্থানীয় পর্যায়ে ২৩৩টি হরতাল পালিত হয়। এই ৫ বছরের মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও স্থানীয় পর্যায়ে ৮ দিন হরতাল পালন করে। গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সারাদেশে ১৩০টি হরতাল পালন করেছে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হরতালকে ‘ধ্বংসাত্মক’ কর্মসূচি বলে আখ্যায়িত করলেও দেখা গেছে হরতাল ডাকার দিক থেকে বরাবরই প্রথম স্থানে রয়েছে তারা।। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জাতির কাছে হরতাল না করার অঙ্গীকার করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি ঘোষণা করেন, ‘বিরোধী দলে গেলেও আমরা কখনও হরতাল করব না।’ কিন্তু ২০০১ সালের পর এই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে তারা হরতাল কর্মসূচি পালন করে। এদিকে বিগত দিনগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিরোধী দলে থেকে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগই ক্ষমতাসীন সরকারের শুরুর দিক থেকে হরতাল করেছে। এক্ষেত্রে তারা ক্ষমতাসীন সরকারকে হানিমুন পিরিয়ড কাটানোর সময়ও দেয়নি। এদিকে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকতে তাদের ডাকা হরতালকে সফল বলে দাবি করলেও বর্তমানে ক্ষমতায় এসে নিজেদের পালিত সেই হরতালকেই জনসমর্থনহীন ছিল বলে উল্লেখ করছে। গত ১৬ মে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তাদের ডাকা বেশিরভাগ হরতালই ছিল জনসমর্থনহীন। এগুলো কেবল জনগণের দুর্ভোগই বাড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ৩০ এপ্রিল যে গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিল, তা ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান মহাজোট সরকারের ১৭ মাসের মাথায় ঢাকায় মহাসমাবেশ করে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একমাস সময় হাতে রেখে আগামী ২৭ জুন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছেন। সমাবেশে তিনি হরতাল ডাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি জনগণের সমস্যার কথা চিন্তা করে আগেভাগে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, হরতালের সমস্যার চেয়েও বর্তমান সরকারের সময়ে মানুষ বড় সমস্যায় রয়েছে। তার মতে, বিষয়টি বিবেচনা করে দেশের মানুষ এই হরতাল স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এই হরতালকে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। না হলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারা এটা প্রতিহত করবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। আগামী ২৭ জুন বিএনপির ডাকা জাতীয় পর্যায়ের প্রথম হরতাল হলেও এর আগে বিএনপি নেতারা বগুড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে একটি হরতাল পালন করেছে। সম্প্রতি রাজশাহীর সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়া বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় বগুড়ায় হরতাল পালন করে তারা। যদিও সরকারি দল আওয়ামী লীগের ডাকে ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে কয়েকদফা হরতাল হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সিলেটের জকিগঞ্জেও একটি হরতাল পালন করেছে।
এদিকে বর্তমান বিরোধী দল সরকারের দেড় বছরের মাথায় আন্দোলনের ডাক দিলেও গত সরকারের সময় বিরোধী দল সরকারের প্রথম মাসেই আন্দোলনের ডাক দেয়। অষ্টম জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দিন ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ পল্টনে মহাসমাবেশ থেকে ওইবছর ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে প্রতিরোধ সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেয়। অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওই সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনা গত ১ অক্টোবরের নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে চারদলীয় জোটের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ইসি ও রাষ্ট্রপতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। তিনি বলেছিলেন, একদিকে চার দল, সঙ্গে দু’দল সিএ ও ইসি মোট ৬ দল আর তাদের সঙ্গে বাতাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। সবারই এক কথা ছিল—আওয়ামী লীগকে হারাতে হবে।
বর্তমান সরকারের সময় বিরোধী দল বিএনপি আগামী ২৭ জুন জাতীয় পর্যায়ের প্রথম হরতালের ডাক দিলেও ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল এরই মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু হরতাল পালন করেছে। বর্তমান সরকারের সময় ঢাকায় প্রথম হরতাল পালন করে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে গ্যাস ব্লক চুক্তির প্রতিবাদে গতবছর ১৪ সেপ্টেম্বর তারা ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করে। এমনকি জাতির সামনে হরতাল না করার অঙ্গীকার করেও বিরোধী দলে গিয়ে তারা ঠিকই হরতাল ডেকেছে
Copy-priyo.com******************************
সেই দিন অনেক আগেই পার হয়ে গিয়েছে… ভাল মন্দ বুঝতে শিখেছি… এখন আর হরতাল হলে খুশি হই না.. হরতাল মানে একটি দিনের অপচয়… অনেক কাজ পেন্ডিং হয়ে যাওয়া… কিন্তু আমাদের নেতা নেত্রীরা মনে হয় এখনো স্কুল জীবনেই আছে.. মানে তাদের বুদ্ধি শুদ্ধি এখনো স্কুল পড়ুয়া শিশু কিশোরদের পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে… দেখছেন না কি মহা উৎসাহে হরতাল এর ডাক দিচ্ছেন ও পালন করছেন… আর আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবি নামক পরগাছা তাদের সাফাই গাচ্ছেন। তারাও মনে হয় আমার মত ফাকিবাজ ছাত্র ছিলেন.. তবে আমি ফাকিবাজি ছেড়ে দিয়ে ভাল হয়ে স্কুল জীবনটা পার করে এখন কিছুটা হলেও বুদ্ধিমান হয়েছি.. কিন্তু তাদের আর তা হয়ে উঠেনি…এখনো ফাকিবাজিটা (নিজের সাথে না দেশের সাথে??) জিনের মধ্যে রয়ে গিয়েছে। যাই হোক.. তাদের সংখ্যা কম নয়..তাদের সাপোর্টারও কম নয় (আজকে ঘর থেকে বের হতে হলে একটু চিন্তা করে বের হতে হবে… আমাকে রাস্তায় ধরতে পারলে বিনা ভাড়ায় হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছে দিতে পারেন.. )… কিন্তু আমরা যারা নিরীহ জনগন.. আমাদের পক্ষে বলার মত কেউ নেই.. অনেকে ভাবতে পারেন সরকারীদল তো আমাদের সাথে রয়েছেন.. তারা হরতালের বিপক্ষে বলছেন.. একদম ভুল… সরকারী দলকে বিরোধী দল বানিয়ে দেখুন তারাও দ্্বিগুন উৎসাহে হরতাল এর ডাক দিবেন। তাহলে আমাদের উপায় কি?? আমাদের কি হবে?? কিছুই না… আমরা বসে বসে এখন 30 বছর আগে কে রাজাকার ছিল… কার বউ কার সাথে হোটেলে ছিল… কার ছেলে কোন মেজরের বউকে নিয়ে টানা টানি করেছিলেন এইসব নিয়ে গবেষনা করব। দেশ গোল্লায় যাচ্ছে যাক না.. আমার কি? আমরা প্রগতিশীল মানুষ… দেশ নিয়ে চিন্তা করলে চলে? তারচেয়ে নিজের পকেটের কথা চিন্তা করি… কি বললে বিদেশী প্রভুরা খুশি হবেন.. কি বললে অমুক নেতা খুশি হয়ে আমাকে একটি চাকরির ব্যাবস্থা করে দিতে পারেন সেসব বলি… তাই বলছিলাম.. আসুন হরতাল পালন করি.. ওদের সাফাই গাই…… আর ৩৬ বছর আগে কে রাজাকার ছিল কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল… জিয়া কে কি শহীদ বলা যায় কি যায় না এসব নিয়ে গবেষনা করি।
সত্যি সেলুকাস.. কি বিচিত্র এদেশ.. কি বিচিত্র এদেশের মানুষ।।******************************************
মুজিব বন্দনার মূর্ছনা, নেশার শেষ কোথায়?
ঘটনার যেন শেষ হতেই চায়না একটার পর একটা লেগেই থাকে নেতাকে নিয়ে মাতামাতির দিবস আজ জন্মদিন তো কাল ভাষন দিবস, পরশু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস তো তরশু ঘোষনা দিবস নেতাকে ঘিরে বছরজুড়েই চলতে থাকে একটার পর একটা আয়োজন শেখ মুজিবকে মাটির কবর হতে উঠিয়ে ঐশ্বরিক সৃষ্টিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী দেশ শাসনের মূল এজেন্ডা সহস্রাব্দের সেরা বাঙালী বানিয়ে দলটির গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে এই নেতার একক প্রচেষ্টার ফসল হিসাবে আখ্যায়িত করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেন না নেতা আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন, সুতরাং এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে হবে যুগ যুগ ধরে শেখ হাসিনা, শেখ জয় আর শেখ রেহানাদের মত অযোগ্য, অপদার্থ, জাতীয় চাঁদাবাজ আর রাজনীতির সুবিধাভোগী বেজন্মাদের পূজা করে মুজিব নামের মাহফিল আর কান্নার সমুদ্রে ডুবিয়ে জাতিকে প্রকারান্তে নেশাগ্রস্ত বানানো হচ্ছে যাতে করে শেখ পরিবারের রাষ্ট্রীয় লুটপাট ধামাচাপা দেয়া যায় একজন মানুষকে কতটা উপরে উঠালে দেশের ১৫ কোটি মানুষ ২৪/৭ ঘন্টা দেখতে পাবে? এর উত্তর শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারও জানা আছে বলে মনে হয়না স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, স্টেডিয়াম, হাসপাতাল, মিলনায়তন হতে শুরু করে শৌচাগার পর্যন্ত নাম করণ করা হয়েছে এই নেতার নামে প্রশ্ন জাগে, আমাদের আর কতদূর যেতে হবে এই নেতার মূল্য শোধ করতে?
ঢাকা কলেজে সহ বাংলাদেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুজিব সেনাদের তান্ডবে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাই বিপর্যস্ত নয়, বরং জাতির মেরুদন্ড স্থায়ীভাবে পংগু হওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে এ নিয়ে শেখ পরিবারের উচ্চবাচ্য নেই, নেই সভা-সেমিনারের আয়োজন পাশাপশি আলৌকিক মন্ত্রবলে বোবা হয়ে গেছে এ পরিবারের উচ্ছিষ্টখোর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর দল বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর সহ তাব জনপদ আওয়ামী হিংস্র থাবায় আজ ছিন্ন ভিন্ন ক্ষুধার্ত হায়েনা আর শকুনের মত জল, স্থল আর অন্তরীক্ষ হতে আওয়ামী চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ধর্ষনবাজ আর লুটেরার দল টানা হেঁচড়া করছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকটা প্রতিষ্ঠানকে। কিশোরী/যুবতী কন্যাকে ঘর হতে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মুজিব নামের পূজারীর দল, একই সেনাদের ভয়ে সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হচ্ছে অভিভাবকদের জায়গা-জমি, কল-কারখানা, ব্যবসা-বানিজ্য মাছের ঘের, এমনকি শৌচাগার পর্যন্ত দখল হচ্ছে শেখ মুজিবের নামে একদিকে মুজিব বন্দনা পাশাপাশি মুজিব সেনাদের পদভারে ভূলুণ্ঠিত আমাদের দৈনন্দিন জীবন বাংলায় একটা কথা আছে, ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষন’ মুজিব নামে বাংলাদেশের আকাশ বাতাসকে যারা প্রকম্পিত করছেন তাদের নেংটা করলে ভেতরটায় খুব একটা আলোকিত কিছু পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না। রাজনীতিবিদ মানেই প্রফেশনাল চোর, বাংলাদেশে এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য মুজিব বন্দনার সমুদ্রে অবগাহন করে আওয়ামী রাজনীতিবিদগন নিজেদের পাপ কতটা মোচন করতে পেরেছেন সোময় এলেই তার প্রমান পাওয়া যাবে।
শেখ মুজিব একজন মানুষ, একজন বড় মাপের নেতা। দেশের অধিকাংশ মানুষ এ নেতাকে স্থান দিয়েছে সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে। ক্ষমতা নামের পাগলা ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে শেখ মুজিবকে আকাশের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা যদি বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে তার জন্যে দায়ী থাকবে শেখ পরিবার নিজে যে দেশে নৈমিত্তিক জীবন বিপর্যস্ত থাকে বিদ্যুৎ, গ্যাস আর পানির মত নিত্যপ্রয়োজীনয় জিনিসের অভাবে, যেখানে আইনের শাসন দলিত মথিত দলীয় শাসনের যাঁতাকলে, শিক্ষা ব্যবস্থায় যেখানে তৈরী হয় বিকলাঙ্গ শিক্ষিত সমাজ, সেখানে এক ব্যক্তির স্তুতি বন্দনা দেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য রাজনীতিবিদদের একটা সত্য মনে রাখলে ভাল হয়, যে কোন স্বাধীনতার শেষ ঠিকানা অর্থনৈতিক মুক্তি দরিদ্রের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত রেখে জাতিকে মুজিব বন্দনার মূর্ছনায় বেশী দিন নেশাগ্রস্ত রাখা যাবে বলে মনে হয়না।